All Blogs
Panic & Anxiety

What is a Panic Attack? Causes, Symptoms & Emergency Coping Guide

22 October 2026
7 min read
Dr. Tanvir Rahman Shah

Dr. Tanvir Rahman Shah

Assistant Professor, Psychiatry — Rangpur Medical College Hospital

হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই তীব্র বুক ধড়ফড়, মনে হওয়া বুক ফেটে যাবে, দম আটকে আসা, সারা শরীর ঘামে ভিজে যাওয়া এবং তীব্র মৃত্যুর অনুভূতি — এগুলো এমন এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা যা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ উপলব্ধি করতে পারে না। অনেকেই এটিকে নিশ্চিত হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক মনে করে কার্ডিয়াক ইমার্জেন্সিতে ছোটেন। কিন্তু সব টেস্টের রেজাল্ট যখন সম্পূর্ণ 'নরমাল' আসে, তখন রোগী আরও দিশেহারা বোধ করেন। এই অবস্থার চিকিৎসাগত নাম প্যানিক অ্যাটাক (Panic Attack)।

প্যানিক অ্যাটাক আসলে কি এবং কেন হয়?

আমাদের মস্তিষ্কে একটি স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম সিস্টেম রয়েছে যাকে 'Fight or Flight' রেসপন্স বলা হয়। বাস্তবে যখন কোনো বাঘ বা বিপদের সামনে মানুষ পড়ে, শরীর তখন নিজেকে বাঁচাতে অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসরণ করে। কিন্তু প্যানিক অ্যাটাকে কোনো বাস্তব বিপদ ছাড়াই মস্তিষ্কের এই ফলস অ্যালার্ম অন হয়ে যায়।

মস্তিষ্ক শরীরে বার্তা পাঠায় যে আপনি চরম বিপদে আছেন, যার ফলে সেকেন্ডের মধ্যে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং শরীর কাঁপতে শুরু করে।

প্যানিক অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণসমূহ

প্যানিক অ্যাটাক চলাকালীন নিচের ৪টি বা তার বেশি লক্ষণ হঠাৎ দেখা দেয়:

  • তীব্র হৃদকম্পন: মনে হয় হৃৎপিণ্ড বুকের খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসবে
  • দম বন্ধ লাগা (Hyperventilation): বাতাসে পর্যাপ্ত অক্সিজেন নেই মনে হওয়া
  • বুকের মধ্যে চাপ বা অস্বস্তি: যা অনেকেই হার্ট অ্যাটাক বলে ভুল করেন
  • অতিরিক্ত ঘাম ও শরীর কাঁপা: ঠান্ডা পরিবেশে থাকা সত্ত্বেও হাত-পা ভিজে যাওয়া
  • মাথা ঘোরা ও অস্থিরতা: মাথা হালকা লাগা বা মূর্ছা যাওয়ার মতো অনুভূতি
  • রিয়ালিটি হারিয়ে যাওয়া (Derealization): মনে হওয়া চারপাশের সবকিছু অচেনা বা অবাস্তব
  • মৃত্যুভয়: মনে হওয়া এক্ষুনি মারা যাব বা নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলব

হার্ট অ্যাটাক নাকি প্যানিক অ্যাটাক — কীভাবে বুঝবেন?

এ দুটি সমস্যার মধ্যে লক্ষণগত মিল থাকার কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে কিছু স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে:

বৈশিষ্ট্যপ্যানিক অ্যাটাকহার্ট অ্যাটাক
ব্যথার ধরনবুকের মাঝখানে সূঁচালো বা চেপে ধরা চাপবুক গুঁড়ো করে দেওয়ার মতো তীব্র ব্যথা ও চাপ
ব্যথার বিস্তারসাধারণত বুকেই সীমাবদ্ধ থাকেবাম হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়ে
সময়কাল১০ মিনিটে পিক করে, ২০-৩০ মিনিটে কমেব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকে ও দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হয়
বয়স ও হিস্ট্রিসাধারণত তরুণ ও যুবকদের বেশি হয়ডায়াবেটিস, প্রেশার বা বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি
মেডিকেল টেস্টইসিজি (ECG) ও ইকো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আসেইসিজি ও ট্রপোনিন টেস্টে অসঙ্গতি ধরা পড়ে

প্যানিক অ্যাটাক চলাকালীন তাৎক্ষণিক করণীয় (Emergency Coping)

যদি আপনার বা আপনার পাশে কারো প্যানিক অ্যাটাক শুরু হয়, তবে নিচের বৈজ্ঞানিক কৌশলগুলো দ্রুত কাজ করে:

  1. ধীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (Box Breathing): দ্রুত ও অগভীর শ্বাস নিলে রক্তে কার্বন ডাই-অক্সাইড কমে মাথা ঘোরা বাড়ে। তাই নাক দিয়ে ৪ সেকেন্ড ধরে গভীর শ্বাস নিন, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ৬ সেকেন্ডে ছাড়ুন।
  2. নিজেকে আশ্বস্ত করুন: মনে মনে বলুন—"এটি একটি প্যানিক অ্যাটাক, এটি কোনো হার্ট অ্যাটাক নয়। এটি আমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কয়েক মিনিটেই এটি ঠিক হয়ে যাবে।"
  3. ৫-৪-৩-২-১ গ্রাউন্ডিং টেকনিক:
    • চোখে দেখা যায় এমন ৫টি জিনিসের দিকে তাকান
    • স্পর্শ করা যায় এমন ৪টি বস্তুকে ছুঁয়ে দেখুন
    • কানে শোনা যায় এমন ৩টি শব্দ খেয়াল করুন
    • নাক দিয়ে পাওয়া যায় এমন ২টি গন্ধ অনুভব করুন
    • জিহ্বায় ১টি স্বাদ অনুভব করার চেষ্টা করুন
    এটি মস্তিষ্কের ফোকাস অভ্যন্তরীণ আতঙ্ক থেকে বাইরের বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনে।

দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও মুক্তির উপায়

প্যানিক অ্যাটাক পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য। এর জন্য দুটি প্রধান পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়:

  • ফার্মাকোথেরাপি: মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য আধুনিক নিরাপদ ওষুধ।
  • কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT): চিন্তার ভুল প্যাটার্ন পরিবর্তন করা এবং ভীতি দূর করার বিশেষ সাইকোথেরাপি।

রংপুর অঞ্চলের রোগীদের জন্য সুখবর হলো, ডাঃ তানভীর রহমান শাহ (সহকারী অধ্যাপক, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) প্যানিক ডিজঅর্ডার ও উদ্বেগজনিত রোগে দীর্ঘ ১২+ বছরের ক্লিনিকাল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।

চেম্বার সিরিয়াল ও পরামর্শ

  • রংপুর চেম্বার: কাশির উদ্দিন হাসপাতাল, ধাপ জেল রোড, রংপুর। সময়: বিকাল ৩টা — রাত ৮টা। সরাসরি সিরিয়াল: 01319-227799
  • সৈয়দপুর চেম্বার: ল্যাবজোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সৈয়দপুর। সিরিয়াল: 01722-415651
  • নীলফামারী চেম্বার: ইবাদত হাসপাতাল, নীলফামারী। সিরিয়াল: 01312-755548
  • অনলাইন সিরিয়াল: www.drtanvir.com/appointments

Frequently Asked Questions (FAQ)

প্যানিক অ্যাটাক (Panic Attack) কি?

প্যানিক অ্যাটাক হলো কোনো বাস্তব বিপদ বা প্রকাশ্য কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে তীব্র ভয়, আতঙ্ক এবং শারীরিক অস্বস্তির সৃষ্টি হওয়া। এটি সাধারণত ১০ মিনিটের মধ্যে চূড়ান্তে পৌঁছায় এবং ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে কমে আসে।

প্যানিক অ্যাটাকের প্রধান শারীরিক লক্ষণগুলো কী কী?

হঠাৎ দ্রুত ও জোরে বুক ধড়ফড় করা (Palpitations), শ্বাস নিতে না পারা বা দম আটকে আসার অনুভূতি, হাত-পা কাঁপা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, মাথা ঘোরা, বুক চেপে ধরা বা ব্যথা এবং মনে হওয়া এই বুঝি স্ট্রোক বা মৃত্যু হতে চলেছে।

হার্ট অ্যাটাক এবং প্যানিক অ্যাটাকের মধ্যে পার্থক্য কী?

হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা সাধারণত বুকের বাম দিক বা মাঝখান থেকে বাম হাত, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিশ্রমের সাথে বাড়ে। অন্যদিকে প্যানিক অ্যাটাক বিশ্রামের সময়ও হঠাৎ শুরু হতে পারে, এর সাথে গভীর মানসিক আতঙ্ক ও দম বন্ধ লাগার অনুভূতি থাকে এবং ইসিজি (ECG) ও ট্রপোনিন টেস্ট স্বাভাবিক আসে।

প্যানিক অ্যাটাক শুরু হলে তাৎক্ষণিক কী করা উচিত?

ধীরেসুস্থে শ্বাস নিন (৪ সেকেন্ডে শ্বাস নিন, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং ৬ সেকেন্ডে মুখ দিয়ে ছাড়ুন), মনে মনে নিজেকে বলুন 'এটি ক্ষণস্থায়ী, আমি নিরাপদ, এটি হার্ট অ্যাটাক নয়', এবং ৫-৪-৩-২-১ গ্রাউন্ডিং টেকনিক ব্যবহার করে চারপাশের বাস্তব জিনিসের ওপর মনোযোগ দিন।

প্যানিক অ্যাটাক কি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য?

হ্যাঁ, সঠিক সাইকিয়াট্রিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপির (CBT) মাধ্যমে প্যানিক ডিসঅর্ডার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং স্থায়ীভাবে সুস্থ হওয়া সম্ভব।

Medical Disclaimer

The information provided in this article is for educational and mental health awareness purposes only. It is not a substitute for professional medical diagnosis or treatment. Always seek the advice of a qualified psychiatrist or physician with any questions you may have.

Dr. Tanvir Rahman Shah

Dr. Tanvir Rahman Shah

Psychiatrist & Sexologist · Assistant Professor, Rangpur Medical College Hospital · MBBS, BCS (Health), MD (Psychiatry — BSMMU) · BMDC Reg. 65078

12+ Years Experience · Bissoy ⭐ 5.0

Book appointment

More Blogs